কালীবাড়ি ভিলার রক্তাক্ত রহস্য | লাল শাড়ির প্রেতিনীর প্রত্যাবর্তন

 

কালীবাড়ি ভিলার রক্তাক্ত রহস্য | লাল শাড়ির প্রেতিনীর প্রত্যাবর্তন



এক ভয়ংকর বাংলা ভূতের গল্প

রচনা: সুব্রত মজুমদার

শরৎশেষের এক গভীর রাত। নদীয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম শালবনের চারপাশে তখন কুয়াশার চাদর। দূরে শিয়ালের ডাক, বাঁশবাগানের ফাঁক দিয়ে হু হু করে বয়ে যাওয়া বাতাস, আর মাঝে মাঝে অদ্ভুত এক নারীকণ্ঠের কান্না—সব মিলিয়ে গ্রামের মানুষ জানত, কালীবাড়ি ভিলার পাশ দিয়ে রাতের পর কেউ যায় না।

এই ভিলাটি একসময় জমিদার কালীকান্ত রায়ের গর্ব ছিল। বিশাল প্রাসাদ, নাচঘর, পুকুর, মন্দির—সব ছিল। কিন্তু জমিদারের একমাত্র মেয়ে কুসুমের রহস্যময় মৃত্যুর পর সবকিছু বদলে যায়। লোকমুখে প্রচলিত, কুসুম প্রেম করত এক সাধারণ স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে। জমিদার সেই সম্পর্ক মেনে নেননি। এক ঝড়ের রাতে কুসুমকে লাল বেনারসি পরিয়ে জোর করে অন্যত্র বিয়ে দিতে গেলে সে নিজের ঘরে আত্মহত্যা করে। তারপর থেকেই প্রতি বর্ষা, প্রতি অমাবস্যায় লাল শাড়ি পরা এক নারীকে দেখা যায় ওই ভিলার বারান্দায়।

কলকাতা থেকে আসা চার বন্ধু—ঋত্বিক, সৌরভ, প্রান্তিক আর নীল—একটি হরর ডকুমেন্টারি চ্যানেল চালাত। “Real Fear Bengal” নামে তাদের ইউটিউব চ্যানেল খুব জনপ্রিয়। তারা ঠিক করল, কালীবাড়ি ভিলার সত্যিটা ক্যামেরাবন্দি করবেই।

গ্রামের বৃদ্ধ হরিপদ তাদের সতর্ক করেছিল—
“বাবুরা, রাত বারোটার পর যদি কারও গলায় শুনতে পাও—‘আমার শাড়ি ফিরিয়ে দাও’—পেছনে তাকাবে না!”

বন্ধুরা হেসে উড়িয়ে দিল।

রাত ১১:৪৫। হাতে ক্যামেরা, ড্রোন, টর্চ আর সাহস নিয়ে তারা ঢুকল কালীবাড়ি ভিলায়।

প্রথমেই চোখে পড়ল—প্রবেশদ্বারের ওপর কালো দাগ, যেন আগুনে পোড়া। ভিতরে ঢুকতেই ক্যামেরার সিগন্যাল কাঁপতে লাগল।

নীল বলল,
“এটা EMF disturbance হতে পারে…”

কিন্তু তার গলায় আত্মবিশ্বাস কম।

দোতলার নাচঘরে ঢুকতেই হঠাৎ ড্রোন নিজে থেকেই চালু হয়ে ওপরে উঠল।

ক্যামেরায় দেখা গেল—ধুলোমাখা মেঝেতে কেউ যেন সদ্য নেচেছে। পায়ের ছাপ… লাল আলতার ছাপ…

তারপরই ভেসে এল নূপুরের শব্দ।

ঝন… ঝন… ঝন…

প্রান্তিক টর্চ ফেলতেই দেখা গেল ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে আছে এক নারী। মাথা নিচু, লাল শাড়ি, লম্বা চুল।

ঋত্বিক সাহস করে বলল,
“কে আপনি?”

ধীরে ধীরে মুখ তুলল সে।

চোখ দুটো রক্তে ভরা… ঠোঁট কাটা… আর গলায় দড়ির কালো দাগ।

হঠাৎ সে অমানুষিক চিৎকার করে উঠল—
“আমার শাড়ি… কে নিয়েছে?”

চারদিকে দরজা-জানালা বন্ধ হয়ে গেল।

সৌরভ দৌড়ে পালাতে গিয়ে পুরনো আয়নার সামনে পড়ল। সেখানে সে নিজের প্রতিবিম্ব নয়—দেখল কুসুম তার পিছনে দাঁড়িয়ে।

“তুই ফিরিয়ে দিবি?”

সৌরভ চিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেল।

হঠাৎ ঘরের মাঝখানে পুরনো গ্রামোফোন নিজে থেকেই বাজতে শুরু করল। এক বিকৃত বিয়ের সানাই।

নীল ক্যামেরা নিয়ে সব রেকর্ড করছিল। কিন্তু স্ক্রিনে যা দেখা গেল, তাতে তার হাত কেঁপে উঠল—

বাস্তবে চারজন…
কিন্তু স্ক্রিনে পাঁচজন।

পঞ্চমজন—লাল শাড়ির কুসুম।

প্রান্তিক হঠাৎ খুঁজে পেল এক পুরনো কাঠের বাক্স। ভিতরে কুসুমের ডায়েরি—

“আজ আমাকে জোর করে বিয়ে দেবে… কিন্তু আমার ভালোবাসা মরবে না… এই লাল শাড়ি আমার অভিশাপ…”

এরপরেই ভয়ংকর ঘটনা ঘটল।

বাক্স থেকে লাল শাড়িটি নিজে থেকেই উড়ে এসে প্রান্তিকের গায়ে জড়িয়ে গেল।

সে কাঁপতে কাঁপতে মেয়েলি গলায় বলতে লাগল—
“আমার বিয়ে সম্পূর্ণ করো…”

বন্ধুরা আতঙ্কে তাকে ধরে রাখতে পারছিল না।

হঠাৎ নাচঘরের ভাঙা ঝাড়বাতি পড়ে গেল।

ঋত্বিক চিৎকার করে বলল,
“নীচে দৌড়াও!”

তিনজন দৌড়ে বেরোল।

কিন্তু প্রান্তিক?

সে আর এল না।

ভোরে গ্রামের মানুষ দেখতে পেল—ভিলার বারান্দায় লাল শাড়ি পরা এক নতুন ছায়া দাঁড়িয়ে।

তার মুখ প্রান্তিকের… কিন্তু চোখ কুসুমের…

পুলিশ এল, তদন্ত হল, কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না।

শুধু নীলের ক্যামেরায় শেষ ফুটেজে শোনা গেল—

“আরেকজন থেকে গেল…”

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর “Real Fear Bengal” চ্যানেল বন্ধ হয়ে যায়।

আজও কেউ যদি ইউটিউবে সেই শেষ ভিডিও চালায়, রাত ১২টার পর নাকি স্ক্রিনে এক মুহূর্তের জন্য ভেসে ওঠে—

লাল শাড়ির প্রেতিনী…

আর কানে আসে—

“আমার শাড়ি… ফিরিয়ে দাও…”

শালবনের মানুষ আজও বলে, কালীবাড়ি ভিলা কাউকে ডাকে না…

সে শুধু নিজের মানুষ বেছে নেয়…

আর একবার যদি সে তোমাকে দেখে ফেলে…

তাহলে তুমি আর দর্শক নও…

তুমিও গল্পের অংশ।


Hashtags:

#কালীবাড়ি_ভিলার_রক্তাক্ত_রহস্য #লালশাড়ির_প্রেতিনী #SubrataMajumder #বাংলা_ভূতের_গল্প #ভয়ংকর_গল্প #BengaliHorrorStory #GhostStoryBangla #HauntedHouse #BanglaHorror #ScaryStory #BengaliThriller #RealFearBengal #ভৌতিক_কাহিনী #অভিশপ্ত_বাড়ি #রহস্যময়_গল্প #বাংলা_হরর #YouTubeHorrorStory #HorrorContent #ভূতের_বাড়ি #BengaliStorytelling

Post a Comment

Previous Post Next Post