চৌধুরী ভিলার অমাবস্যা | কলকাতার ভয়ংকর ভূতের বাড়ি রচনা: সুব্রত মজুমদার

চৌধুরী ভিলার অমাবস্যা | কলকাতার ভয়ংকর ভূতের বাড়ি

রচনা: সুব্রত মজুমদার


 ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ১২টা ছুঁইছুঁই। কলকাতার উত্তর দিকের এক পুরনো জমিদার বাড়ি—“চৌধুরী ভিলা”—বহু বছর ধরেই পরিত্যক্ত। লোকমুখে শোনা যায়, সেখানে নাকি প্রতি অমাবস্যায় শোনা যায় এক নারীর কান্না।

অর্ণব, রুদ্র আর মিতুল—তিন বন্ধু, ইউটিউবের জন্য ভূতের ভিডিও বানায়। তারা ঠিক করল, আজ অমাবস্যার রাতে ওই বাড়িতে ঢুকে সত্যিটা জানবেই।

বাড়ির বিশাল লোহার গেট ঠেলে ঢুকতেই কর্কশ শব্দে যেন চারদিক কেঁপে উঠল। বাতাসে পুরনো স্যাঁতসেঁতে গন্ধ, চারপাশে ঝোপঝাড়, ভাঙা জানালা দিয়ে চাঁদের আলোও ঢুকতে ভয় পাচ্ছে।

“ক্যামেরা অন আছে তো?” ফিসফিস করে বলল অর্ণব।

রুদ্র মাথা নাড়ল।

ভিতরে ঢুকতেই তারা দেখতে পেল এক বিশাল হলঘর। দেয়ালে পুরনো প্রতিকৃতি, কিন্তু আশ্চর্য—এক মহিলার ছবির চোখ যেন তাদের দিকেই তাকিয়ে।

হঠাৎ… টুং… টুং… টুং…

উপরতলার ভাঙা ঘড়ি নিজে থেকেই বেজে উঠল।

মিতুল কাঁপা গলায় বলল, “চল ফিরে যাই…”

কিন্তু অর্ণব সাহস করে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠল। বন্ধুরাও পিছনে গেল।

দোতলার শেষ ঘরটা আধখোলা। ভিতর থেকে ভেসে আসছে মৃদু কান্না।

দরজা ঠেলে খুলতেই তারা স্তব্ধ।

ঘরের মাঝখানে সাদা শাড়ি পরা এক মহিলা, লম্বা চুল মুখ ঢেকে বসে কাঁদছে।

“কে… কে আপনি?” রুদ্র জিজ্ঞেস করতেই মহিলা ধীরে ধীরে মুখ তুলল।

মুখ দেখে তিনজনের শরীর হিম।

কারণ তার চোখ দুটো নেই… শুধু কালো ফাঁকা গর্ত… আর ঠোঁটে ভয়ঙ্কর হাসি।

“আমার সন্তানকে দেখেছ?” সে ফিসফিস করে বলল।

হঠাৎ দরজা বন্ধ! জানালা নিজে থেকেই খুলে বন্ধ হতে লাগল। ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেল।

মহিলা এবার মাটিতে না হেঁটে, ভেসে ভেসে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।

মিতুল চিৎকার করে দরজায় ধাক্কা দিতে লাগল। অর্ণব মোবাইলের আলো ফেলতেই দেয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা—

“এখান থেকে কেউ ফেরে না…”

হঠাৎ এক শিশুর কান্না!

ঘরের কোণে দেখা গেল ছোট্ট এক ছেলে, যার গলায় দড়ির দাগ।

মহিলা বিকট চিৎকার করে বলল, “ওদের আমার কাছে রেখে দাও!”

এরপর পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল। সিঁড়ি ভেঙে পড়তে লাগল।

কীভাবে যেন রুদ্র দরজা খুলে ফেলল। তিনজন প্রাণপণে নিচে নেমে দৌড়ে বেরিয়ে এল।

বাইরে এসে দেখে ভোর হয়ে গেছে।

কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার—

ক্যামেরার ফুটেজে তারা তিনজন ছাড়া আরও একজন দেখা যাচ্ছে…

সাদা শাড়ির সেই মহিলা… ঠিক অর্ণবের পিছনে দাঁড়িয়ে।

পরদিন থেকে অর্ণব অদ্ভুত আচরণ করতে শুরু করল। মাঝরাতে সে ঘুম থেকে উঠে বলে—

“আমার সন্তানকে দেখেছ?”

কয়েকদিন পর অর্ণব নিখোঁজ।

আজও চৌধুরী ভিলার সামনে গেলে রাতের অন্ধকারে তিনটি ছায়া দেখা যায়…

আর শোনা যায় এক নারীর কান্না—

“আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দাও…”

“আমার শাড়ি… ফিরিয়ে দাও…”

Post a Comment

Previous Post Next Post